সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে রানীগঞ্জে বাংলা পক্ষের ‘ইখতিয়ার পার্টি’
রানীগঞ্জ -: পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানীগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় বাংলা পক্ষের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো একটি বিশেষ কর্মসূচি ‘ইখতিয়ার পার্টি’। এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী উপস্থিত থেকে বাঙালি মুসলমানদের ‘জিহাদি’ বলে অপমান করার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই ধরনের মন্তব্যকে বাংলার সামাজিক সম্প্রীতির উপর আঘাত বলে মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়, রানীগঞ্জ বিধানসভা সম্পাদক রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, জামুড়িয়া বিধানসভা সম্পাদক অধ্যাপক সৌভিক চট্টোপাধ্যায়, জামুড়িয়া বিধানসভার সহ-সম্পাদক নাফিস মালিক এবং সৌমিত্র চ্যাটার্জি সহ আরও অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলা বরাবরই ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। কিন্তু কিছু অসামাজিক শক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের ‘জিহাদি’ বলে সম্বোধন করা শুধু অপমানজনক নয়, বরং এর মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলার পরিচয় তার বহুত্ববাদী সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে। কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এর ফলে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষ ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও বলেন, বাংলায় সব সম্প্রদায়ের মানুষ যুগের পর যুগ মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। বাঙালি মুসলমানদের জিহাদি বলে অপমান করার মতো মানসিকতাকে সমাজ কোনওভাবেই মেনে নেবে না।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত নেতা ও কর্মীরা সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার শপথ নেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানান, যাতে তারা কোনও ধরনের উসকানিমূলক ও বিভাজন মূলক রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন।