logo
Select Language
Hindi
Bengali
Tamil
Telugu
Marathi
Gujarati
Kannada
Malayalam
Punjabi
Urdu
Oriya

জামালপুরে ঈদ উপলক্ষে প্রশাসনের সম্প্রীতি সভা, শান্তি বজায় রাখার বার্তা বিধায়ক ও প্রশাসনের

পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে আসন্ন ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হল। জামালপুর ডেভেলপমেন্ট ব্লক অফিসে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জামালপুরের বিধায়ক অরুণ হালদার, BDO পার্থ সারথি দে, পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিক, বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উৎসবের সময়ে এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সভায় বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ, স্থানীয় ইমাম, সমাজসেবী এবং সাধারণ নাগরিক সভায় অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, ঈদের সময় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক অরুণ হালদার বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সবসময় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের উদাহরণ বহন করে এসেছে। এখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করেন এবং একে অপরের উৎসবে সামিল হন। তিনি বলেন, “ঈদ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভালোবাসা, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বেরও উৎসব। তাই সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, কোনো গুজব বা উস্কানিমূলক কথায় কান দেওয়া উচিত নয়। সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো খবর বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেখলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আবেদন করেন তিনি।
BDO পার্থ সারথি দে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রশাসন সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে এবং উৎসবের সময়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “শান্তি বজায় রাখা শুধু প্রশাসনের কাজ নয়, সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবাই যদি সচেতন থাকেন, তাহলে কোনো সমস্যাই তৈরি হবে না।” তিনি আরও জানান, সরকারি নিয়ম ও প্রোটোকল মেনে চলার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরা জানান, ঈদ উপলক্ষে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাজার, জনবহুল এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। কোনো রকম অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়, কোথাও কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দিতে।
এই সম্প্রীতি সভায় বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বক্তব্য রাখেন। তাঁদের বক্তব্য, উৎসব মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও ঐক্যের বার্তা দেয়। সমাজে বিভেদ নয়, সম্প্রীতি বজায় রাখাই হওয়া উচিত সকলের লক্ষ্য। তাঁরা বলেন, “ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতা সবার আগে।”
সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকাও জানানো হয়। জনসমাগমের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা, যান চলাচলের নিয়ম পালন করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় মেনে অনুষ্ঠান আয়োজন করার আবেদন জানানো হয়। বড় জমায়েত বা বিশেষ অনুষ্ঠানের আগে প্রশাসনকে আগাম জানাতেও বলা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের সম্প্রীতি সভা সমাজে সচেতনতা বাড়ায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং অশান্তির সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে যায়।
সভা শেষে উপস্থিত সকলে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপনের শপথ নেন। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন। সকলেই আশা প্রকাশ করেন, এবারের ঈদ জামালপুরে শান্তি, আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশে উদযাপিত হবে।

17
116 views

Comment