|
|
|
জামালপুরে মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন, ভূতনাথ মালিকের সমর্থনে উপচে পড়া জনস্রোত
জামালপুরে মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন, ভূতনাথ মালিকের সমর্থনে উপচে পড়া জনস্রোত
জামালপুরে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সেই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের সমর্থনে এক বিশাল জনসমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়, যা কার্যত জনজোয়ারে পরিণত হয়। ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই র্যালি এলাকাজুড়ে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে সামনে আসে।
মিছিলটি শুঁড়ে কালনার জোড়বাঁধ এলাকা থেকে শুরু হয়ে চকদিঘী বেলতলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পথজুড়ে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক, সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন গ্রাম ও অঞ্চল থেকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন, যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে তৃণমূলের প্রতি জনসমর্থন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মিছিল চলাকালীন রাস্তাজুড়ে তৃণমূলের পতাকা, ব্যানার এবং ঢাক-ঢোলের তালে তালে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। স্থানীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া নিয়ে অনেকেই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন। বিশেষ করে মহিলাদের শাড়ি পরে দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ র্যালিকে এক উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ দেয়।
এই বিশাল কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান, প্রার্থী ভূতনাথ মালিক, যুব সভাপতি উত্তম হাজারী, শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি তাবারক আলী মণ্ডল, মহিলা নেত্রী কল্পনা সাঁতরা, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, জেলা জয় হিন্দ বাহিনীর সভাপতি সাহাবুদ্দিন মণ্ডল (ওরফে পাঞ্জাব), ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিট্টু মল্লিক সহ একাধিক শাখা সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
ভূতনাথ মালিক, যিনি এলাকার মানুষের কাছে ‘মাস্টারমশাই’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে জনসেবার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সহজ-সরল ব্যবহার এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। ফলে তাঁর সমর্থনে এই বিপুল জনসমাগম হওয়া অপ্রত্যাশিত নয় বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
র্যালির শেষে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে মেহেমুদ খান বলেন, “আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সকলকে একযোগে লড়াই করতে হবে। প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে গিয়ে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের কথা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা সারা দেশে নজির সৃষ্টি করেছে। এই উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে হলে আবারও তৃণমূল কংগ্রেসকেই জয়ী করতে হবে।”
মেহেমুদ খান কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বিজেপি নানা চক্রান্তের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই এই চক্রান্ত সফল হতে দেব না। মানুষের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
অন্যদিকে, প্রার্থী ভূতনাথ মালিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমি সবসময় মানুষের পাশে থেকেছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। এই এলাকা আমার নিজের বাড়ি, এখানকার মানুষের উন্নয়নই আমার প্রথম লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে হলে আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিতে হবে এবং বিভেদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে।”
এই র্যালির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল মহিলাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। গ্রাম থেকে গ্রামান্তর পর্যন্ত বহু মহিলা সক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে তৃণমূলের প্রতি নারী সমাজের আস্থা দৃঢ় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, “এই ধরনের র্যালি আগে খুব কমই দেখা গেছে। এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এলাকার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে এবং তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে।”
পুরো কর্মসূচি জুড়ে শৃঙ্খলা বজায় ছিল উল্লেখযোগ্য। পুলিশ প্রশাসনও সতর্ক ছিল এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিশাল জনসমাগম স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জামালপুরে তৃণমূল কংগ্রেস যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মেহেমুদ খানের নেতৃত্ব এবং ভূতনাথ মালিকের জনপ্রিয়তা আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সবমিলিয়ে, এই র্যালি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি শক্তিশালী বার্তা—জামালপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন মজবুত এবং জনসমর্থন যথেষ্ট বিস্তৃত।
🟥 শেষ কথা
আসন্ন নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের শক্তি প্রদর্শন রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, এই জনসমর্থন ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।
Read More
|
|
|