|
|
|
জামালপুরে তৃণমূলের প্রচারে গতি, ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে কর্মীদের জোরদার তৎপরতা
জামালপুরে তৃণমূলের প্রচারে গতি, ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে কর্মীদের জোরদার তৎপরতা
পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর বিধানসভা এলাকায় আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার কার্যত নতুন গতি পেয়েছে ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খানের সক্রিয় নেতৃত্বে। প্রার্থী ভূতনাথ মালিককে সামনে রেখে গোটা এলাকায় সংগঠনকে মজবুত করতে যে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মেহেমুদ খান।
গত কয়েকদিন ধরেই জামালপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে কর্মী বৈঠক, জনসংযোগ কর্মসূচি এবং মিছিলের আয়োজন করা হচ্ছে। এই সমস্ত কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান, যিনি নিজে উপস্থিত থেকে কর্মীদের উৎসাহিত করছেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মেহেমুদ খানের এই সক্রিয় ভূমিকা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে।
সম্প্রতি জৌগ্রাম অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী ভূতনাথ মালিক, ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান, প্রাক্তন ব্লক সভাপতি অরবিন্দ ভট্টাচার্য্য, অঞ্চল সভাপতি মৃদুল কান্তি মন্ডল, প্রধান মল্লিকা মন্ডল, উপপ্রধান শাজাহান মন্ডল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে কর্মীরা সকল নেতাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তবে বৈঠকের মূল আকর্ষণ ছিলেন মেহেমুদ খান, যিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্বাচনী দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বার্তা দেন।
মেহেমুদ খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দল আমাদের উপর যে আস্থা রেখেছে, সেই দায়িত্ব আমাদের সঠিকভাবে পালন করতে হবে। এই নির্বাচনে কোনও রকম ঢিলেমি চলবে না। প্রত্যেক কর্মীকে মাঠে নেমে কাজ করতে হবে এবং মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বহুদিন পর জামালপুরে একজন ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, যিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সকলকে একযোগে প্রচারে নামার আহ্বান জানান তিনি।
মেহেমুদ খানের উদ্যোগে বহু পুরনো কর্মীকেও আবার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি নিজে ফোন করে এবং সরাসরি যোগাযোগ করে কর্মীদের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানান। ফলে কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংগঠনিক দক্ষতাই তৃণমূলের বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে এই নির্বাচনে।
প্রার্থী ভূতনাথ মালিকও তাঁর বক্তব্যে ব্লক সভাপতির প্রশংসা করেন এবং বলেন, “মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে আমরা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করছি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রম আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করতে বদ্ধপরিকর।
এরপর মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে দলীয় প্রতিনিধিরা আবুঝহাটি ১ ও ২ অঞ্চলে যান। সেখানে অঞ্চল সভাপতি তরুণ কুমার ঘোষ, রমেন্দ্রনাথ কোনার, প্রধান রমজান শা, ঝর্না দাস সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এখানেও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। মেহেমুদ খান কর্মীদের নির্দেশ দেন প্রতিটি বুথে বুথে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বার্তা পৌঁছে দিতে।
পরে জারগ্রাম অঞ্চলেও একটি বড় কর্মী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। “ঘরের ছেলে” প্রার্থী পাওয়ায় কর্মীদের আবেগ আরও প্রবল হয়েছে। মেহেমুদ খান এই আবেগকে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, “এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়, প্রত্যেককে রাস্তায় নামতে হবে।”
দিনের শেষে জামালপুর থানা মোড় সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে এই মিছিলে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। মিছিল চলাকালীন বাড়ি বাড়ি প্রচার করা হয় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। পুরো এলাকায় এক ধরনের নির্বাচনী উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়।
মেহেমুদ খান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে হলে সংগঠনের প্রতিটি স্তরে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর মতে, দল যদি শক্তিশালী থাকে, তাহলে কর্মীদের অস্তিত্বও বজায় থাকবে। তাই তিনি সকলকে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জামালপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার এখন মেহেমুদ খানের নেতৃত্বে এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাঁর সংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং মাঠে নেমে কাজ করার মানসিকতা দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রচার কতটা ভোটে পরিণত হয়।
Read More
|
|
|