|
|
|
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ক্যাম্পে সাধারণ মানুষের পাশে বিধায়ক অরুণ হালদার
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ক্যাম্পে সাধারণ মানুষের পাশে বিধায়ক অরুণ হালদার
শ্রীকৃষ্ণপুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ, জ্যোৎসিরাম গ্রামে ড্রেন পরিদর্শন
পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর বিধানসভা এলাকার শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আয়োজিত এই ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন এলাকার মাননীয় বিধায়ক শ্রী অরুণ হালদার মহাশয়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিডিও অফিসার শ্রী পার্থসারথি দে মহাশয় সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এদিন সকাল থেকেই ক্যাম্পে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মহিলা ও প্রবীণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য বহু মানুষ ক্যাম্পে উপস্থিত হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ক্যাম্পে উপস্থিত আধিকারিকরা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন বিষয় বুঝিয়ে দেন এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে তা নিয়ে সাহায্য করেন।
মাননীয় বিধায়ক শ্রী অরুণ হালদার শুধু ক্যাম্পে উপস্থিত থাকেননি, তিনি নিজে এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে আবেদনপত্র তুলে দেন। অনেক পরিবারকে সরাসরি গিয়ে তিনি প্রকল্পের গুরুত্ব বোঝান এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে জানান। তাঁর এই উদ্যোগকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু মানুষ বলেন, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করার এই মনোভাব সত্যিই প্রশংসনীয়।
ক্যাম্প চলাকালীন বিধায়ক অরুণ হালদার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা মন দিয়ে শোনেন। কেউ পানীয় জলের সমস্যা তুলে ধরেন, কেউ রাস্তার দুরবস্থা, আবার কেউ নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানান। বিধায়ক প্রত্যেকের কথা গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক সময় সরকারি প্রকল্পের সঠিক তথ্য প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছায় না। ফলে বহু মানুষ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এই সমস্যা দূর করার উদ্দেশ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে গেলে প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত এবং সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
এদিন ক্যাম্পে বহু মহিলাকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য বসার ব্যবস্থা ও পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। প্রবীণ নাগরিকদের আলাদা করে সাহায্য করার ব্যবস্থাও রাখা হয়। বিধায়ক নিজে কয়েকজন বয়স্ক মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, একই দিনে জামালপুর বিধানসভার জ্যোৎসিরাম গ্রামে ড্রেন পরিদর্শনে যান বিধায়ক শ্রী অরুণ হালদার। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জলনিকাশি সমস্যার অভিযোগ ছিল। বর্ষার সময় রাস্তায় জল জমে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন বিধায়ক।
ড্রেন পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে প্রশাসনের আধিকারিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসীরা বিধায়কের সামনে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, বৃষ্টির সময় ড্রেন উপচে জল রাস্তায় উঠে আসে এবং বহু বাড়িতে জল ঢুকে পড়ে। এর ফলে ছোট ছোট শিশু ও প্রবীণ মানুষদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হয়।
বিধায়ক অরুণ হালদার পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে তা খতিয়ে দেখেন। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের মাধ্যমে যাতে জলনিকাশি ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়, সে বিষয়ে জোর দেন তিনি।
স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য, বহুদিন পর জনপ্রতিনিধিকে সরাসরি এলাকায় এসে সমস্যার কথা শুনতে দেখে তাঁরা আশাবাদী। তাঁদের মতে, এই ধরনের পরিদর্শন এবং সরাসরি নজরদারি থাকলে উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগোবে।
এদিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শ্রীকৃষ্ণপুর ও জ্যোৎসিরাম এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাসকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এলাকার বাসিন্দারা। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ থেকে শুরু করে ড্রেন পরিদর্শন— সব মিলিয়ে দিনভর ব্যস্ত সূচির মধ্যেও মানুষের পাশে থাকার বার্তা তুলে ধরলেন বিধায়ক শ্রী অরুণ হালদার মহাশয়।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করা হচ্ছে, তখন জামালপুর বিধানসভায় এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, শুধু সরকারি ঘোষণা নয়, প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সেই দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ক্যাম্প এবং জ্যোৎসিরাম গ্রামের ড্রেন পরিদর্শন কর্মসূচি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও জনসংযোগমূলক উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের আশা, ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং এলাকার উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে।
Read More
|
|
|